ভূমিকা: প্রধান রেচন পদার্থ
দেহের বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থই হলো রেচন পদার্থ।
- ইউরিওটেলিক (Ureotelic): প্রধান বর্জ্য ইউরিয়া। যেমন: মানুষ, কিছু স্থলচর ও সামুদ্রিক প্রাণী।
- ইউরিকোটেলিক (Uricotelic): প্রধান বর্জ্য ইউরিক এসিড। যেমন: পতঙ্গ, সাপ, টিকটিকি, পাখি।
- অ্যামোনোটেলিক (Aminotelic): প্রধান বর্জ্য অ্যামোনিয়া। যেমন: হাইড্রা, চিংড়ি, মাছ, কেঁঁচো।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিনের ভাঙ্গনের ফলে যকৃতে বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন নামক পিত্তরঞ্জক তৈরি হয়।
রেচনতন্ত্রের অঙ্গ
মূত্রথলি (Urinary Bladder)
এটি একটি পেশিবহুল থলি। এর প্রাচীরে ডেট্রুসর (Detrusor) পেশি থাকে।
- ধারণক্ষমতা: ৭০০-৭৫০ মিলি।
- মূত্রত্যাগের ইচ্ছা: ২৮০-৩২০ মিলি মূত্র জমা হলে ইচ্ছা জাগে।
ইউরেটার (Ureter)
বৃক্ক ও মূত্রথলির সংযোগকারী নালি, যা পেরিস্টালসিস প্রক্রিয়ায় মূত্র বহন করে। দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫ সেমি।
বৃক্ক (Kidney)
গঠন ও সাধারণ তথ্য:
- আকৃতি: শিম বীজের মতো।
- ওজন: পুরুষ (১৫০-১৭০ গ্রাম), নারী (১৩০-১৫০ গ্রাম)।
- দৈর্ঘ্য: ১০-১২ সেমি।
- আবরণী: রেনাল ক্যাপসুল।
- অবস্থান: দ্বাদশ থোরাসিক থেকে তৃতীয় লাম্বার কশেরুকা পর্যন্ত।
- গ্রন্থি: প্রতিটি বৃক্কের উপর সুপ্রারেনাল/অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থাকে।
- হাইলাম: অবতল অংশের ভাঁজ, যা দিয়ে রেনাল ধমনী প্রবেশ করে এবং রেনাল শিরা ও ইউরেটার বের হয়।
কাজ:
- বর্জ্য নিষ্কাশন (প্রধান কাজ)।
- অসমোরেগুলেশন (পানি ও লবণের সাম্যতা)।
- হোমিওস্ট্যাসিস (দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা)।
- রক্তের pH (৭.৩৫ - ৭.৪৫) নিয়ন্ত্রণ।
- হরমোন উৎপাদন: এরিথ্রোপয়েটিন, রেনিন।
- নিষ্ক্রিয় ভিটামিন-D কে সক্রিয় করা।
নেফ্রন (Nephron)
বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একক। প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে।
কর্টিক্যাল নেফ্রন (৮৫%): হেনলির লুপ ছোট, কর্টেক্সে থাকে।
জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন (১৫%): হেনলির লুপ লম্বা, মেডুলায় বিস্তৃত, মূত্র ঘন করতে মূখ্য ভূমিকা রাখে।
অরনিথিন চক্র (Urea Cycle)
স্থান: যকৃৎ।
প্রক্রিয়া: ডি-অ্যামাইনেশন প্রক্রিয়ায় অ্যামিনো এসিড থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত অ্যামোনিয়া (NH 3) ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO₂) থেকে কম বিষাক্ত ইউরিয়া ( H 2 N − C O − N H 2 ) তৈরি হয়।
মূত্র (Urine)
ভৌত বৈশিষ্ট্য
- পরিমাণ: দৈনিক প্রায় ১.৫ লিটার (500-2500 ml)।
- বর্ণ: ইউরোক্রোম (Urochrome) নামক রঞ্জকের কারণে হালকা হলুদ।
- pH: ৪.৫ - ৮.০ (গড়ে ৬.০)।
- আপেক্ষিক গুরুত্ব: ১.০০৮ - ১.০৩০।
- গন্ধ: ইউরিনোড (Urinod) নামক যৌগের কারণে ঝাঁঝালো।
- মূত্রবর্ধক (Diuretics): চা, কফি, তামাক, অতিরিক্ত পানি ও লবণাক্ত খাবার।
Polyuria
> ৩ লিটার/দিন
Anuria
< ১০০ মিলি/দিন
Oliguria
< ৪০০ মিলি/দিন
Azotemia
রক্তে ইউরিয়া বৃদ্ধি
অস্বাভাবিক উপাদান ও সংশ্লিষ্ট রোগ
- Glycosuria (গ্লুকোজ): ডায়াবেটিস মেলিটাস।
- Proteinuria (প্রোটিন): বৃক্কে প্রদাহ, লিউকেমিয়া।
- Bilirubinuria (বিলিরুবিন): জন্ডিস।
- Hematuria (রক্ত): বৃক্কে প্রদাহ বা আঘাত।
অসমোরেগুলেশন
দেহে পানি ও Electrolyte-এর (যেমন: Na+,K+) ভারসাম্য রক্ষা করার প্রক্রিয়া। এর জন্য মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে Osmoreceptor থাকে।
হরমোনের কাজ
ADH (Antidiuretic Hormone) / ভেসোপ্রেসিন
পোস্টেরিয়র পিটুইটারি থেকে নিঃসৃত হয়। DCT ও সংগ্রাহী নালিকা থেকে পানি পুনঃশোষণ বাড়ায়, ফলে মূত্রের পরিমাণ কমে। এর অভাবে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস রোগ হয়।
Aldosterone (RAAS)
রেনিন-অ্যানজিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন সিস্টেমের অংশ। এটি সোডিয়াম (Na+) ও পানি পুনঃশোষণ বাড়িয়ে এবং পটাশিয়াম (K+) নির্গমন করে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে।
ANH (Atrial Natriuretic Hormone)
হৃৎপিণ্ডের অ্যাট্রিয়াম থেকে নিঃসৃত হয়। এটি RAAS-এর বিপরীতে কাজ করে রক্তচাপ কমায়।
বৃক্কের রোগ ও চিকিৎসা
বৃক্ক বিকল (Renal Failure)
Acute (স্বল্পস্থায়ী): ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হতে পারে।
Chronic (দীর্ঘস্থায়ী): ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলে।
তাৎক্ষণিক বিকলের কারণ:
- Pre-renal: বৃক্কে রক্তপ্রবাহ কমে গেলে (যেমন: ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ)।
- Renal: বৃক্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে (যেমন: প্রদাহ, ঔষধ)।
- Post-renal: মূত্র নিষ্কাশনে বাধা (যেমন: পাথর, টিউমার)।
বৃক্কের কার্যকারিতা পরীক্ষা:
রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা (Serum Creatinine Test) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।
স্বাভাবিক মাত্রা: পুরুষ (০.৬ - ১.২ mg/dL), নারী (০.৫ - ১.১ mg/dL)।
চিকিৎসা:
- ডায়ালাইসিস: হিমোডায়ালাইসিস, পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।
- বৃক্ক প্রতিস্থাপন (Kidney Transplant)
কুইজ পর্ব: জ্ঞান যাচাই
১. কোন এনজাইমের উপস্থিতিতে amino এসিড থেকে কিটো এসিড উৎপাদন হয়?
উত্তর: ডিঅ্যামাইনেজ।
ব্যাখ্যা: ডিঅ্যামাইনেজ এনজাইম অ্যামিনো এসিড থেকে অ্যামিনো গ্রুপ (NH₂) অপসারণ করে কিটো এসিড তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াকে ডিঅ্যামাইনেশন বলে।
২. বহিঃকোষীয় তরলে পটাশিয়ামের স্বাভাবিক ঘনত্ব -
উত্তর: 4mmol/L।
ব্যাখ্যা: বহিঃকোষীয় তরলে (Extracellular fluid) পটাশিয়ামের (K+) ঘনত্ব খুবই কম (৩.৫-৫.০ mmol/L), যেখানে অন্তঃকোষীয় তরলে এর ঘনত্ব অনেক বেশি (প্রায় ১৫০ mmol/L)।
৩. পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসে দিনে কয়বার ডায়ালাইসেট প্রতিস্থাপন করা হয়?
উত্তর: ৩-৪বার।
ব্যাখ্যা: পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসে ডায়ালাইসেট তরল পেটের ভিতরে ৪-৬ ঘণ্টা রাখা হয় এবং দিনে ৩-৪ বার পরিবর্তন করা হয়।
৪. মূত্র তৈরীর কৌশল বর্ণনা করেন কোন বিজ্ঞানী?
উত্তর: বিজ্ঞানী কুশনী।
ব্যাখ্যা: বিজ্ঞানী আর্থার রবার্টসন কুশনী ১৯১৭ সালে মূত্র তৈরির আধুনিক তত্ত্বটি (পরিস্রাবণ-পুনঃশোষণ তত্ত্ব) প্রদান করেন।
৫. মূত্র তৈরির প্রথম ধাপ কোনটি?
উত্তর: অতি সূক্ষ্ম পরিস্রাবণ।
ব্যাখ্যা: মূত্র তৈরির ৩টি ধাপের মধ্যে প্রথমটি হলো গ্লোমেরুলাসে রক্তের অতি সূক্ষ্ম পরিস্রাবণ (Ultrafiltration)।
৬. মূত্রে রক্তের উপস্থিতিকে বলা হয় -
উত্তর: হিমাচুরিয়া।
ব্যাখ্যা: মূত্রে রক্ত বা লোহিত রক্তকণিকার উপস্থিতিকে হিমাচুরিয়া (Hematuria) বলে।
৭. কোন পদ্ধতিতে ADH রক্তে অবমুক্ত হয়?
উত্তর: Neurosecration।
ব্যাখ্যা: ADH হাইপোথ্যালামাসের নিউরন দ্বারা তৈরি হয় এবং নিউরনের অ্যাক্সন বেয়ে পিটুইটারি গ্রন্থিতে আসে ও সেখান থেকে রক্তে ক্ষরিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে নিউরোসিক্রেশন বলে।
৮. নিচের কোনটি ডাইইউরেটিক্স নয়?
উত্তর: ভেসোপ্রেসিন।
ব্যাখ্যা: ভেসোপ্রেসিন হলো ADH এর অপর নাম, যা একটি অ্যান্টি-ডাইইউরেটিক হরমোন, অর্থাৎ এটি মূত্রের পরিমাণ কমায়। বাকিগুলো ডাইইউরেটিক্স (মূত্রবর্ধক)।
৯. মূত্র ইউরিয়া জীবাণুর সংস্পর্শে কিসে রূপান্তরিত হয়?
উত্তর: অ্যামোনিয়া।
ব্যাখ্যা: জীবাণুর ইউরিয়েজ (Urease) এনজাইমের প্রভাবে ইউরিয়া ( H 2 N − C O − N H 2 ) ভেঙ্গে অ্যামোনিয়া (NH 3) তৈরি হয়, যা ঝাঁঝালো গন্ধের কারণ।
১০. জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন মানুষের বৃক্কের নেফ্রনের কত %?
উত্তর: ১৫%।
ব্যাখ্যা: মানবদেহের মোট নেফ্রনের প্রায় ১৫% হলো জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন এবং বাকি ৮৫% হলো কর্টিক্যাল নেফ্রন।
১১. সংগ্রাহী নালিকায় নিচের কোনটি ক্ষরিত হয় না?
উত্তর: H2O।
ব্যাখ্যা: সংগ্রাহী নালিকা থেকে পানি (H2O) ক্ষরিত হয় না, বরং ADH হরমোনের প্রভাবে পুনঃশোষিত হয়। K+, NH4+, H+ ক্ষরিত হয়।
১২. ৭০বছর বয়স্ক মানুষের বৃক্ক কত শতাংশ কাজ করতে সক্ষম?
উত্তর: ৫০%।
ব্যাখ্যা: বয়সের সাথে সাথে বৃক্কের কার্যকারিতা কমতে থাকে। ৭০ বছর বয়সে বৃক্ক প্রায় ৫০% কাজ করতে সক্ষম থাকে।
১৩. নিচের কোনটি ডায়ালাইসেটের উপাদান নয়?
উত্তর: Uric acid।
ব্যাখ্যা: ডায়ালাইসেট একটি পরিশুদ্ধ তরল যাতে গ্লুকোজ, বাফার ও বিভিন্ন আয়ন (Na+) থাকে, কিন্তু কোনো বর্জ্য পদার্থ যেমন ইউরিক এসিড থাকে না।
১৪. নিচের কোন হরমোন অ্যালডোস্টেরন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে?
উত্তর: অ্যানজিওটেনসিন।
ব্যাখ্যা: রেনিন-অ্যানজিওটেনসিন-অ্যালডোস্টেরন সিস্টেমে, অ্যানজিওটেনসিন II অ্যাড্রেনাল কর্টেক্সকে উদ্দীপ্ত করে অ্যালডোস্টেরন ক্ষরণ বাড়ায়।
১৫. ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স কত হলে ডালাইসিস প্রয়োজন হয়?
উত্তর: ১০-১২সিসি/মিনিট।
ব্যাখ্যা: ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট ১৫ সিসি/মিনিটের নিচে নেমে আসলে বৃক্ক বিকল ধরা হয় এবং ডায়ালাইসিস প্রয়োজন হয়। ১০-১২ সিসি/মিনিট একটি গুরুতর পর্যায়।
১৬. দেহের সব রক্ত কত মিনিটে বৃক্কের মাধ্যমে পরিশোধিত হয়?
উত্তর: ৪-৫মিনিট।
ব্যাখ্যা: কার্ডিয়াক আউটপুটের প্রায় ২০-২৫% রক্ত প্রতি মিনিটে বৃক্কে যায়, এর ফলে সম্পূর্ণ রক্ত পরিশোধিত হতে প্রায় ৪-৫ মিনিট সময় লাগে।
১৭. নিম্নের কোন অংশ কর্টেক্স ও মেডুলা উভয় অংশে অবস্থান করে?
উত্তর: সংগ্রাহক نালিকা।
ব্যাখ্যা: সংগ্রাহী নালিকা কর্টেক্স থেকে শুরু হয়ে মেডুলার গভীরে প্রবেশ করে, তাই এটি উভয় অংশেই অবস্থান করে।
১৮. নিকটিবর্তী প্যাচানো নালিকায় সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে কোনটি শোষিত হয়?
উত্তর: ফসফেট।
ব্যাখ্যা: নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালিকায় গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন, ল্যাকটেট, ফসফেট ইত্যাদি সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে শোষিত হয়।
১৯. কোন নেফ্রনটির হেনলির লুপ অনেক লম্বা?
উত্তর: জাক্সটামেডুলারি নেফ্রন।
ব্যাখ্যা: জাক্সটামেডুলারি নেফ্রনের হেনলির লুপ মেডুলার গভীরে প্রবেশ করে এবং এটি সাধারণ কর্টিক্যাল নেফ্রনের চেয়ে অনেক লম্বা হয়।
২০. ANH এর পূর্ণরূপ -
উত্তর: Atrial natriuretic hormone।
ব্যাখ্যা: ANH এর পূর্ণরূপ হলো Atrial Natriuretic Hormone, যা হৃৎপিণ্ডের অ্যাট্রিয়াম থেকে ক্ষরিত হয়।
২১. নিচের কোনটি নেফ্রনের কাজ নয়?
উত্তর: Resecretion।
ব্যাখ্যা: নেফ্রনের প্রধান তিনটি কাজ হলো Filtration (পরিস্রাবণ), Reabsorption (পুনঃশোষণ), এবং Secretion (ক্ষরণ)। Resecretion নেফ্রনের কাজ নয়।
২২. জন্ডিসে মূত্রের সাথে কোন উপাদান নির্গত হয়?
উত্তর: বিলিরুবিন।
ব্যাখ্যা: জন্ডিস হলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত বিলিরুবিন মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে নির্গত হয়, ফলে মূত্রের রঙ গাঢ় হলুদ হয়।
২৩. রক্তে রেচন বর্জ্যের বৃদ্ধি পাওয়া কে কি বলে?
উত্তর: azotemia।
ব্যাখ্যা: রক্তে নাইট্রোজেনঘটিত রেচন বর্জ্য (যেমন ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন) বৃদ্ধি পাওয়াকে Azotemia বলে।
২৪. মূত্রের pH কত?
উত্তর: ৫-৬.৫।
ব্যাখ্যা: মূত্রের pH সাধারণত অম্লীয় (Acidic) প্রকৃতির হয় এবং এর গড় মান ৬.০। স্বাভাবিক পরিসর ৪.৫ থেকে ৮.০ হলেও, সাধারণত এটি ৫.০ থেকে ৬.৫ এর মধ্যে থাকে।
২৫. রেচনে ইউরিয়ার আধিক্য থাকাকে কি বলে?
উত্তর: ইউরেটেলিজম।
ব্যাখ্যা: যে সকল প্রাণী প্রধান রেচন পদার্থ হিসেবে ইউরিয়া ত্যাগ করে, তাদের ইউরিওটেলিক প্রাণী বলে এবং এই প্রক্রিয়াকে ইউরিওটেলিজম (Ureotelism) বলে।
২৬. মূত্রের গন্ধ ঝাঁঝালো হওয়ার জন্য কোনটি দায়ী?
উত্তর: অ্যামোনিয়া।
ব্যাখ্যা: মূত্রের স্বাভাবিক গন্ধের জন্য ইউরিনোড দায়ী। কিন্তু জীবাণুর সংক্রমণে ইউরিয়া ভেঙ্গে অ্যামোনিয়া তৈরি হলে মূত্রে ঝাঁঝালো গন্ধ হয়।
২৭. ডায়ালাইসিস কত প্রকার?
উত্তর: ২।
ব্যাখ্যা: ডায়ালাইসিস প্রধানত দুই প্রকার: হিমোডায়ালাইসিস এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস।
২৮. অন্তঃকোষীয় তরলে Na+ আয়নের ঘনত্ব কত?
উত্তর: 10m mol/L।
ব্যাখ্যা: অন্তঃকোষীয় তরলে (Intracellular fluid) সোডিয়ামের (Na+) ঘনত্ব কম (প্রায় 10 mmol/L) এবং পটাশিয়ামের ঘনত্ব বেশি।
২৯. রোগীর হাত বা পায়ের একটি ধমনী ও শিরার মাঝে গর্টেক্স গ্রাফ স্থাপন করার পদ্ধতিকে বলা হয় -
উত্তর: সিমিনো ফিস্টুলা।
ব্যাখ্যা: হিমোডায়ালাইসিসের জন্য রোগীর হাত বা পায়ের একটি ধমনী ও শিরার সংযোগ ঘটিয়ে যে উচ্চ রক্তপ্রবাহের পথ তৈরি করা হয় তাকে সিমিনো ফিস্টুলা বা আর্টেরিওভেনাস (AV) ফিস্টুলা বলে।
৩০. নেফ্রনের কোন অংশ কর্টেক্স এ অবস্থান করে না?
উত্তর: হেনলির লুপ।
ব্যাখ্যা: নেফ্রনের হেনলির লুপ এবং সংগ্রাহী নালিকার কিছু অংশ বৃক্কের মেডুলায় অবস্থান করে, কর্টেক্সে নয়।
৩১. নিচের কোনটি ইউরিওটেলিক প্রাণী?
উত্তর: মানুষ।
ব্যাখ্যা: মানুষ ইউরিওটেলিক প্রাণী, কারণ প্রধান রেচন বর্জ্য হিসেবে ইউরিয়া ত্যাগ করে। পতঙ্গ ও সাপ ইউরিকোটেলিক এবং কেঁচো অ্যামোনোটেলিক।
৩২. বৃক্কে মেজর ক্যালিক্স বিভক্ত হয়ে কতটি মাইনর ক্যালিক্স সৃষ্টি করে?
উত্তর: ৮-১৪টি।
ব্যাখ্যা: প্রতিটি বৃক্কে ২-৩টি মেজর ক্যালিক্স থাকে, যেগুলো বিভক্ত হয়ে ৮-১৪টি মাইনর ক্যালিক্স গঠন করে।
৩৩. সাধারনত প্রতি মিনিটে কত সেন্টিমিটার মুত্র সৃষ্টি হয়?
উত্তর: 1cc।
ব্যাখ্যা: প্রতি মিনিটে প্রায় 125cc গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট তৈরি হলেও এর ৯৯% পুনঃশোষিত হয়ে মাত্র 1cc (বা 1 mL) মূত্র তৈরি হয়।
৩৪. নেফ্রন এর অগ্র প্রান্তকে বলা হয় -
উত্তর: রেনাল করপাসল।
ব্যাখ্যা: নেফ্রনের অগ্রভাগের স্ফীত প্রান্তকে রেনাল করপাসল বা মালপিজিয়ান বডি বলে, যা গ্লোমেরুলাস ও বোম্যান্স ক্যাপসুল নিয়ে গঠিত।
৩৫. কোন জাতীয় খাদ্যের বিপাকের ফলে নাইট্রোজেনাস বর্জ্য সৃষ্টি হয়?
উত্তর: প্রোটিন।
ব্যাখ্যা: প্রোটিন জাতীয় খাদ্য বিপাকের ফলে অ্যামিনো এসিড তৈরি হয়, যা থেকে ডিঅ্যামাইনেশন প্রক্রিয়ায় নাইট্রোজেনাস বর্জ্য (অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া) সৃষ্টি হয়।
৩৬. মূত্রথলি হতে মূত্র পরিবহনের কাজ করে কোনটি?
উত্তর: ইউরেথ্রা।
ব্যাখ্যা: মূত্রথলি থেকে মূত্রনালির (Urethra) মাধ্যমে মূত্র দেহের বাইরে নির্গত হয়। ইউরেটার বৃক্ক থেকে মূত্রথলিতে মূত্র বহন করে।
৩৭. কোন ধরনের বিপাকে নাইট্রোজেন ঘটিত রেচন পদার্থ উৎপন্ন হয়?
উত্তর: অপচিতিমূলক।
ব্যাখ্যা: প্রোটিনের ভাঙ্গন বা অপচিতিমূলক (Catabolic) বিপাকের মাধ্যমেই অ্যামিনো এসিড থেকে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়।
৩৮. বৃক্কের অবস্থানের ক্ষেত্রে সঠিক নয়?
উত্তর: বাম বৃক্ক থেকে ডান বৃক্কটি সামান্য উপরে অবস্থিত।
ব্যাখ্যা: যকৃতের অবস্থানের কারণে ডান বৃক্কটি বাম বৃক্কের চেয়ে সামান্য নিচে অবস্থিত। তাই এই উক্তিটি সঠিক নয়।
৩৯. বৃক্কের মেডুলা অংশ কোনটি নিয়ে গঠিত হয় না?
উত্তর: বোমান্স ক্যাপসুল।
ব্যাখ্যা: বোম্যান্স ক্যাপসুল (রেনাল করপাসলের অংশ) বৃক্কের কর্টেক্স অঞ্চলে থাকে। মেডুলায় থাকে হেনলির লুপ, সংগ্রাহক নালিকা ও রক্তজালিকা (ভাসা recta)।
৪০. বৃক্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন কোনটি?
উত্তর: এরিথ্রোপোয়েটিন।
ব্যাখ্যা: বৃক্ক থেকে এরিথ্রোপোয়েটিন এবং রেনিন হরমোন ক্ষরিত হয়। অ্যালডোস্টেরন ও অ্যাড্রেনালিন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়।
৪১. গ্লোমেরুলাস এর অবস্থান বৃক্কের কোথায়?
উত্তর: বোম্যান্স ক্যাপসুলে।
ব্যাখ্যা: গ্লোমেরুলাস হলো কৈশিক রক্তজালিকার গুচ্ছ যা বোম্যান্স ক্যাপসুলের অবতল অংশের মধ্যে অবস্থান করে।
৪২. পোডোসাইট কোষ কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর: বোমান্স ক্যাপসুলে।
ব্যাখ্যা: পোডোসাইট হলো বিশেষায়িত কোষ যা বোম্যান্স ক্যাপসুলের ভিসেরাল স্তরে থাকে এবং গ্লোমেরুলাসের কৈশিক জালিকাকে আবৃত করে রাখে।
৪৩. মূত্রে বিদ্যমান নন নাইট্রোজেনাস উপাদান কোনটি?
উত্তর: কিটোন বডিস।
ব্যাখ্যা: ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, এবং ক্রিয়েটিনিন নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য। কিটোন বডিস ফ্যাট বিপাকের ফলে সৃষ্ট নন-নাইট্রোজেনাস উপাদান।
৪৪. ইউরেথ্রার দৈর্ঘ্য কত?( পুরুষে)
উত্তর: 18-19cm।
ব্যাখ্যা: পুরুষদেহে ইউরেথ্রার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮-১৯ সেমি এবং নারীদেহে প্রায় ৩.৫-৪ সেমি।
৪৫. বৃক্কের অবতল অংশের ভাঁজকে বলা হয় -
উত্তর: হাইলাম।
ব্যাখ্যা: বৃক্কের অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম বা হাইলাস বলে।
৪৬. প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের বৃক্কের ওজন কত?
উত্তর: 150-170গ্রাম।
ব্যাখ্যা: প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের বৃক্কের ওজন গড়ে ১৫০-১৭০ গ্রাম।
৪৭. নিচের কোনটি নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ নয়?
উত্তর: ইউরিনোড।
ব্যাখ্যা: ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া এবং নিউক্লিক এসিড নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ। ইউরিনোড একটি অ্যারোমেটিক যৌগ যা মূত্রের স্বাভাবিক গন্ধের জন্য দায়ী, এটি নাইট্রোজেন ঘটিত নয়।
৪৮. মূত্রথলির আয়তন মানুষের অন্য কোন অঙ্গটির ওজনের সমান?
উত্তর: মস্তিষ্ক।
ব্যাখ্যা: এখানে মূলত আয়তনের তুলনা করা হয়েছে। মূত্রথলির সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের আয়তন কাছাকাছি।
৪৯. বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে রক্ত থেকে কত ঘন সেমি তরল পদার্থ ফিলট্রেট হয়?
উত্তর: 125cm^3।
ব্যাখ্যা: প্রতি মিনিটে বৃক্কের মাধ্যমে প্রায় 125 ঘন সেমি (125 mL) তরল ফিলট্রেট বা পরিস্রুত হয়। একে GFR (Glomerular Filtration Rate) বলে।
৫০. প্রথম বৃক্কের সূক্ষ্ম গঠনের সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন কে?
উত্তর: উইলিয়াম বোম্যান।
ব্যাখ্যা: স্যার উইলিয়াম বোম্যান প্রথম বৃক্কের সূক্ষ্ম গঠন, বিশেষ করে রেনাল করপাসল (যা পরে বোম্যান্স ক্যাপসুল নামে পরিচিত হয়) এর সঠিক বর্ণনা দেন।
৫১. নেফ্রনের হেনলির লুপের দৈর্ঘ্য কত?
উত্তর: ১১ মিলিমিটার।
ব্যাখ্যা: নেফ্রনের হেনলির লুপের দৈর্ঘ্য বিভিন্ন ধরনের নেফ্রনে ভিন্ন হয়, তবে গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ মিমি।
৫২. রক্তে বিদ্যমান কোন রেচন বর্জ্য বৃক্কের রোগ নির্ণয়ের সূচক হিসেবে গণ্য করা হয়?
উত্তর: ক্রিয়েটিনিন।
ব্যাখ্যা: রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বৃক্কের কার্যকারিতা বা GFR (Glomerular Filtration Rate) এর একটি নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৫৩. ডায়রিয়া ও পেশী দুর্বলতা দেখা দেয় কোন আয়নের অভাবে?
উত্তর: K+।
ব্যাখ্যা: পটাশিয়াম (K+) আয়নের অভাবে (Hypokalemia) পেশী দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।
৫৪. বৃক্কের আবরণকে কি বলে?
উত্তর: ক্যাপসুল।
ব্যাখ্যা: বৃক্কের বাইরের তন্তুময় আবরণকে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
৫৫. মানুষের দেহে কতটি নেফ্রন থাকে?
উত্তর: ২০-২৪লক্ষ।
ব্যাখ্যা: প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লক্ষ নেফ্রন থাকে, সুতরাং দুইটি বৃক্কে মোট ২০-২৪ লক্ষ নেফ্রন থাকে।
৫৬. বৃক্ক দেখতে কেমন?
উত্তর: শিম বীজের মতো।
ব্যাখ্যা: বৃক্কের আকৃতি অনেকটা শিম বীজের মতো।
৫৭. ক্রিয়েটিনিন দেহের কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: পেশি।
ব্যাখ্যা: ক্রিয়েটিনিন হলো পেশিতে ক্রিয়েটিন ফসফেট নামক শক্তি-উৎস যৌগের বিপাকের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য পদার্থ।
৫৮. নিচের কোন আয়নের উচ্চমাত্রা হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ করে দেয়?
উত্তর: K+।
ব্যাখ্যা: রক্তে পটাশিয়ামের (K+) উচ্চমাত্রা (Hyperkalemia) হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপকে ব্যাহত করে এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ঘটাতে পারে।
৫৯. মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স কত?
উত্তর: ১২৫সিসি/মিনিট।
ব্যাখ্যা: মানুষের স্বাভাবিক ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট প্রায় ১২৫ সিসি/মিনিট, যা GFR এর সমান।
৬০. কোনটি থেকে ANH ক্ষরিত হয়?
উত্তর: হৃদপিণ্ড।
ব্যাখ্যা: Atrial Natriuretic Hormone (ANH) হৃৎপিণ্ডের অ্যাট্রিয়াম বা অলিন্দের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হয়।
৬১. অ্যামিনো এসিড পুনঃশোষিত হয় নেফ্রনের কোন অংশে?
উত্তর: প্রক্সিমাল প্যাচানো নালিকা।
ব্যাখ্যা: গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট থেকে প্রায় সমস্ত গ্লুকোজ ও অ্যামিনো এসিড নেফ্রনের প্রক্সিমাল প্যাঁচানো নালিকায় পুনঃশোষিত হয়।
৬২. হেনলির লুপে নিচের কোনটি ক্ষরিত হয়?
উত্তর: ইউরিয়া।
ব্যাখ্যা: হেনলির লুপের পাতলা আরোহী বাহু (thin ascending limb) থেকে ইউরিয়া ক্ষরিত হয়ে ইন্টারস্টিশিয়াল ফ্লুইডে প্রবেশ করে, যা মেডুলার ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৬৩. গ্লোমেরুলাস এর কৈশিক জালিকায় হাইড্রোস্ট্যাটট্রিক চাপ কত?
উত্তর: ৭০।
ব্যাখ্যা: গ্লোমেরুলাসের কৈশিক জালিকায় রক্তের হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ প্রায় ৭০ mmHg থাকে, যা পরিস্রাবণের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে।
৬৪. নেফ্রন কোন ভিটামিন কে কার্যোপযোগী উপাদানে পরিণত করে?
উত্তর: ভিটামিন ডি।
ব্যাখ্যা: বৃক্ক নিষ্ক্রিয় ভিটামিন ডি-কে তার সক্রিয় রূপ ক্যালসিট্রিওল (Calcitriol)-এ পরিণত করে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।
৬৫. বৃক্কের কর্টেক্সের বাইরের দুই তৃতীয়াংশ -?
উত্তর: Superficial cortex।
ব্যাখ্যা: বৃক্কের কর্টেক্সের বাইরের দিকের দুই-তৃতীয়াংশকে সুপারফিশিয়াল কর্টেক্স বলা হয়, যেখানে সুপারফিশিয়াল কর্টিক্যাল নেফ্রন থাকে।
৬৬. মূত্রের নন নাইট্রোজেনাস উপাদান নয় কোনটি?
উত্তর: ইনডিকান।
ব্যাখ্যা: সাইট্রেট, ল্যাকটেট এবং কিটোন বডিস নন-নাইট্রোজেনাস। ইনডিকান ট্রিপ্টোফ্যান নামক অ্যামিনো এসিড থেকে তৈরি হয়, তাই এটি একটি নাইট্রোজেনাস যৌগ।
৬৭. মূত্রে সোডিয়ামের শতকরা হার কত?
উত্তর: ০.৩৫%।
ব্যাখ্যা: মূত্রের অজৈব উপাদানগুলোর মধ্যে সোডিয়ামের (Na+) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, প্রায় ০.৩৫%।
৬৮. অসমোরিসেপ্টর কোথায় অবস্থান করে?
উত্তর: হাইপোথ্যালামাস।
ব্যাখ্যা: অসমোরিসেপ্টরগুলো মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে অবস্থিত, যা রক্তের অভিস্রবণিক চাপ পর্যবেক্ষণ করে এবং ADH ক্ষরণে সংকেত পাঠায়।
৬৯. মূত্রে অতিমাত্রায় ইউরিক অ্যাসিড থাকলে তাকে কি বলে?
উত্তর: হাইপারইউরিকোসরিয়া।
ব্যাখ্যা: মূত্রে অতিমাত্রায় বা অস্বাভাবিক পরিমাণে ইউরিক এসিডের উপস্থিতিকে হাইপারইউরিকোসুরিয়া (Hyperuricosuria) বলে।
৭০. দূরবর্তী পেঁচানো নালিকায় নিচের কোনটি ক্ষরিত হয় না?
উত্তর: পিউরিন।
ব্যাখ্যা: দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা থেকে হিস্টামিন, সেরাটোনিন, কোলিন ইত্যাদি ক্ষরিত হয়। পিউরিন হলো নিউক্লিক এসিডের গাঠনিক উপাদান এবং এটি সরাসরি ক্ষরিত হয় না, বরং এর বিপাকের ফলে ইউরিক এসিড তৈরি হয়।